নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:১১, ২০ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) তহবিল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের নামে বিভিন্ন সময়ে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা পড়েছে। তবে বাকি ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের কোনো ভাউচার এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের আর্থিক নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা গেছে। নথি অনুযায়ী, জিএসের নামে সাত ধাপে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় তিনটি উত্তোলনের বিপরীতে এখনো কোনো বিল-ভাউচার জমা হয়নি।
নথি অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় বুথ স্থাপনের জন্য গত ১৫ জানুয়ারি ৩ লাখ ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর ২৭ জানুয়ারি রাকসু সদস্যদের জানুয়ারি মাসের বাজেট হিসেবে ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা এবং ১৩ এপ্রিল দাপ্তরিক ব্যয়ের জন্য আরও ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এই তিন খাতে মোট ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার হিসাব এখনো জমা পড়েনি।
এ বিষয়ে জিএস সালাউদ্দিন আম্মার জানান, ভর্তি পরীক্ষার বুথ স্থাপনের সময় ভ্যাটসহ ব্যয়ের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানা না থাকায় হিসাব সমন্বয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আর রাকসু সদস্যদের জন্য নেওয়া অর্থের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের হিসাব না পাওয়ায় পুরো হিসাব জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
রাকসুর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মসূচি বা দাপ্তরিক কাজ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিল-ভাউচার জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু জিএসের নামে উত্তোলন করা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের হিসাব এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় এসব অর্থ কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তা আর্থিক নথিতে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। কিছু হিসাব এখনো বাকি থাকায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে দ্রুত নথি জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রাকসুর সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলামও জানিয়েছেন, প্রতিটি কর্মসূচির পর যথাযথ বিল-ভাউচারসহ আর্থিক হিসাব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কেন এখনো কিছু হিসাব জমা হয়নি, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, রাকসুর বর্তমান পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য তহবিল থেকে মোট ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার ব্যয়ের বিল-ভাউচার এখনো জমা হয়নি। বকেয়া হিসাবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অঙ্কটি রয়েছে জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের নামে উত্তোলন করা অর্থের।
ব্রেকিং