নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৩৩, ২৩ আগস্ট ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ায় তার ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।
ওই নির্বাচনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন। তিনি এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট পান। ফলে আসন্ন উপনির্বাচনে বিএনপি কাকে প্রার্থী করে এবং জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই হওয়ায় তার প্রার্থিতা নিয়ে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে।
এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীর নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে শোনা যাচ্ছে। মির্জা ফখরুলের মেয়ে শামারুহ মির্জার নামও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় রয়েছে।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানিয়েছেন, প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেবে। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দেবে, দলীয় নেতাকর্মীরা তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেলাওয়ার হোসেনকে আবারও প্রার্থী করার প্রস্তুতি রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করা হবে। তবে দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী ধরে তারা মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এবার বিএনপির নতুন প্রার্থীকে সেই ভোটব্যাংক কতটা ধরে রাখতে পারেন, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের আরও মত, মির্জা ফয়সল আমিন প্রার্থী হলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি তার পক্ষে কাজ করবে। তবে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং তার ভাইয়ের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এক বিষয় নয়। ফলে নির্বাচনে বিএনপিকে নতুন করে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হতে পারে।
অন্যদিকে আগের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া দেলাওয়ার হোসেন এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে লড়াই জমে উঠতে পারে। উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি এবং দুই দলের মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক তৎপরতা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্রেকিং