ড্রোন সাবমেরিনের প্রথম ‘মাদারশিপ’ বানাচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:৪৯, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ড্রোন সাবমেরিনের প্রথম ‘মাদারশিপ’ বানাচ্ছে চীন

চীনের বানানো মানুষবিহীন সাবমেরিন। দ্য ছবি: ইন্ডিপেন্ডেন্ট

সমুদ্রের নিচে মানুষবিহীন ডুবোযান বা ড্রোন পরিচালনার জন্য বিশাল আকারের একটি জাহাজ নির্মাণ করছে চীন। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি বিশ্বের প্রথম বড় আকারের ড্রোন সাবমেরিনবাহী ‘মাদারশিপ’ হতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংহাইয়ের হুদং-ঝংহুয়া শিপইয়ার্ডে জাহাজটির নির্মাণকাজ চলছে। চীনের বড় আকারের উভচর যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের জন্য পরিচিত এই শিপইয়ার্ডে স্যাটেলাইট ছবিতে নতুন জাহাজটির উপস্থিতি ধরা পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চীন ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও মানুষবিহীন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। নতুন জাহাজটি সেই কর্মসূচির অংশ হতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটি উভচর প্রকৃতির হবে এবং চীনের অত্যন্ত বড় আকারের ড্রোন সাবমেরিন বা এক্সএলইউইউভি বহনে সক্ষম হবে। এখন পর্যন্ত এমন অন্তত দুটি ডুবোযানের অস্তিত্বের তথ্য সামনে এসেছে। এর মধ্যে একটি প্রায় ১১৫ ফুট এবং অন্যটি প্রায় ১৪৮ ফুট দীর্ঘ বলে জানা গেছে।

নেভাল নিউজের নৌ বিশ্লেষক এইচ আই সাটনের মতে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জাহাজটির সবচেয়ে সম্ভাব্য ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন সাবমেরিনের মাদারশিপ হিসেবে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭০ ফুট এবং প্রস্থ ৮৮ ফুটের বেশি। এর পেছনের অংশে পানিতে নামানো যায় এমন বিশেষ ডেক ও কাঠামো রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে বড় আকারের ডুবোযান জলে নামানো ও তোলার ব্যবস্থা থাকতে পারে।

জাহাজটির আকার ও নকশা বিশ্লেষণ করে নেভাল নিউজের ধারণা, এর ভেতরের হ্যাঙ্গারে একসঙ্গে অন্তত চারটি বড় ড্রোন সাবমেরিন রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে জাহাজটির প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি চীন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, স্যাটেলাইট ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলো একাই জাহাজটির সামরিক ভূমিকা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।

ব্রিটিশ রয়েল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের সহযোগী সদস্য আলেসান্দ্রো আরদুয়িনোর মতে, জাহাজটি বড় আকারের চালকবিহীন ডুবোযানের জন্যই তৈরি হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো নেই। তবে এটি চীনের স্বয়ংক্রিয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রযুক্তিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রতিফলন হতে পারে।

ভারতের তক্ষশীলা ইনস্টিটিউটের গবেষক আদিত্য রমানাথনের মতে, জাহাজটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের একটি প্ল্যাটফর্ম। তাঁর জানা মতে, অন্য কোনো দেশের কাছে এ ধরনের সাবমেরিনবাহী জাহাজ বর্তমানে নেই।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

আরও পড়ুন