রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ক্ষমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১১:১৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ক্ষমতা

ছবি: রয়টার্স

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নতুন আইনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ট্রাম্প আইনে স্বাক্ষর করার পর এই ক্ষমতা তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় কার্যকর থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

নতুন আইনের তাৎক্ষণিক প্রভাব অবশ্য সীমিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে—এমন পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প সতর্ক থাকতে পারেন বলে বিশ্লেষকদের মত।

আইন অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতা দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া আইন কার্যকর হওয়ার ৩০ দিন পরও যারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনবে অথবা রাশিয়ার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় থাকবে, তাদের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপ করা যেতে পারে।

রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতাদের মধ্যে চীন ও ভারত রয়েছে। তবে নতুন আইনে নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে কোন দেশকে শুল্কের আওতায় আনা হবে, তা নির্ধারণে মার্কিন প্রশাসনের হাতে বিস্তর সুযোগ থাকছে বলে সমালোচকেরা মনে করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে ট্রাম্প এর আগেও ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করেছেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৮০টির বেশি দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি। তবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এসব শুল্কের বেশ কয়েকটি বাতিল হয়েছে।

নতুন আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক আদালতে চ্যালেঞ্জ করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। কারণ এবার আইনেই সরাসরি শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনটি কংগ্রেসে বুধবার পাস হয়। এর উদ্দেশ্য রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতসহ দেশটির যুদ্ধ অর্থায়নের সক্ষমতা কমানো। পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ট্যাংকারগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে কোন কোন দেশ শুল্কের আওতায় পড়তে পারে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। সম্ভাব্য তালিকায় ভারত, ব্রাজিল, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশের নাম আলোচনায় এসেছে। চীন এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে এবং ভারত জানিয়েছে, নতুন শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি আলোচনা আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে মস্কো জানিয়েছে।

নতুন শুল্ক আরোপের সময় নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে শুল্ক কার্যকর হলে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে। এতে মার্কিন ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আইনে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টের হাতে রাখা হয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প কোন দেশ বা পণ্যের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেবেন, সেটি অনেকাংশেই তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন