আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:২৯, ২৯ জুলাই ২০২৬
"বুধবার দিয়ালা প্রদেশের মুকদাদিয়ায় হামলার পর ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাচ্ছেন ইরাকি নিরাপত্তা ও জরুরি সেবা কর্মীরা।"ছবি-বিবিসি
ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া ঘাঁটিতে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন সেনা ও সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF) দাবি করেছে, বাগদাদ, নিনেভেহ, দিয়ালা, বসরা, কিরকুক, কারবালা ও ওয়াসিতসহ বিভিন্ন প্রদেশে হামলায় তাদের অন্তত ২০ সদস্য নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে দাবি করে সেন্টকম। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, সব ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) জানায়, তারা জর্ডানে একটি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী জাহাজেও আঘাত হেনেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হামলার জবাবে কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র "কঠিন জবাব" দেবে।
এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেই তারা ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তবে দেশটি সংঘাত আরও বাড়াতে চায় না বলেও উল্লেখ করেছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরাক ও ইরান। বাগদাদ এটিকে দেশের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে, আর তেহরান অভিযোগ করেছে—এটি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তারের মার্কিন-ইসরায়েলি কৌশলের অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৫০ ডলারে পৌঁছেছে।
সূত্র: বিবিসি
ব্রেকিং