প্রকাশ: ১৭:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি ফি'র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নামজারি করেন না বলে অভিযোগ উঠেছে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত অর্থ না দিলে সেবাগ্রহীতারা সেবা থেকে বঞ্চিত ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একটি জমির খারিজ বা নামজারি করতে সরকার নির্ধারিত খরচ এক হাজার ১৭০ টাকা হলেও প্রতিটি নামজারির বিপরীতে নেওয়া হয় ৬ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। অথচ নামজারির আবেদনের জন্য কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন বা হালনাগাদ ফি এক হাজার টাকা এবং প্রতি কপি মিউটেশন খতিয়ান সরবরাহ বাবদ ১০০ টাকার বাইরে আর কোনো সরকারি খরচ নেই।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ভূমি-সংক্রান্ত কোনো কাজে অফিস থেকে অনলাইনে আবেদন না করলে এবং বাড়তি টাকা না দিলে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান তাদের সারাদিন বসিয়ে রাখেন।
অন্যদিকে সকাল ৯টায় অফিসে আসার কথা থাকলেও তিনি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে অফিসে আসেন। আবার বিকেল ৪টার আগেই ইচ্ছেমতো অফিসে তালা লাগিয়ে চলে যান।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, "আতিকুর রহমানের দুর্নীতি চরমে পৌঁছেছে। সরকারি নীতিমালার বাইরে চুক্তি অনুযায়ী মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া তিনি নামজারি করেন না। নামজারির জন্য মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।"
ভুক্তভোগী আব্দুল হাই বলেন, "আমার জমি খারিজ করতে উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ১২ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমার পাশের একটি জমি খারিজ করে দেওয়ার নাম করে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১৮ হাজার টাকার মৌখিক চুক্তি করেছেন। এরই মধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। বাকি ৮ হাজার টাকা কাজ শেষ হলে নেবেন।"
এছাড়াও লাউরফতেহপুর গ্রামের এক হতদরিদ্র পান দোকানদার সুভাষ চন্দ্র সাহা জানান, "নায়েব আতিকুর রহমান আমার ১৫ শতক জমি খারিজ করতে ৪০ হাজার টাকা নিয়েছেন। জমি খারিজ করতে গিয়ে আমার ব্যবসায়িক মূলধন সব হারিয়ে এখন রাস্তায় রাস্তায় ফেরি করে পান বিক্রি করি।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি অফিসের এক কর্মচারী জানান, "চাকরি জীবনের শেষ সময়ে এসে নায়েব আতিকুর রহমান এখন ডাকাত হয়ে গেছেন। মোটা অঙ্কের টাকা না হলে তিনি খারিজের ফাইল হাতে নেন না।"
লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
"আমার ইউনিয়নের সহজ-সরল মানুষদের ঠকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নায়েব আতিকুর রহমান। তিনি আমার এক নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে একটি জমির খারিজ করতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছি।"
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাউরফতেহপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, "অফিসে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত লোকবল নেই।" এছাড়া জমি খারিজে অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া হয় না বলেও দাবি করেন তিনি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালেদ বিন মনসুর বলেন, "ঘুষ নেওয়ার প্রমাণ থাকলে আমাকে দিন। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, "এখন পর্যন্ত আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। যদি কেউ অভিযোগ করেন, তাহলে অবশ্যই তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ব্রেকিং