আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১:৪৬, ৩০ জুলাই ২০২৬
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ‘ভিশন ২০৩০’ নামে পরিচিত একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার পথে দেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন। ছবি: বিবিসি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে নিজেকে যুদ্ধের বাইরে রাখার চেষ্টা করছিল সৌদি আরব। তবে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের ধারাবাহিক ড্রোন হামলার পর এবার কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে রিয়াদ।
এই সপ্তাহে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (PMF)-এর ঘাঁটিতে হামলা চালায়। সৌদির অভিযোগ, এই গোষ্ঠীই সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি ভূখণ্ডে একাধিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরব এখন বড় এক দোটানায় রয়েছে। একদিকে হামলার জবাব দিয়ে প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার চাপ, অন্যদিকে সংঘাত আরও বাড়লে দেশের অর্থনীতি ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘ভিশন ২০৩০’ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বর্তমান সংঘাতে একপক্ষে রয়েছে ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো—ইয়েমেনের হুথি, ইরাকের পিএমএফ এবং লেবাননের হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং বিভিন্ন মাত্রায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো ও জর্ডান। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও বর্তমানে এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সৌদি আরব, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজকেও লক্ষ্যবস্তু করছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলা শুরু করায় রিয়াদের তেল রপ্তানিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ভিশন ২০৩০। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এই কর্মসূচির লক্ষ্য তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন শিল্প গড়ে তোলা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি তৈরি করা। কিন্তু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়লে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
২০১৯ সালে সৌদির আবকাইক ও খুরাইস তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় দেশটির তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে অর্ধেকে নেমে এসেছিল। চলতি সপ্তাহেও স্যাটেলাইট ছবিতে আবকাইক এলাকায় নতুন হামলার প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং লোহিত সাগরে হুথিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে একদিকে নিরাপত্তা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন—দুই দিক সামলানোই এখন রিয়াদের জন্য সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও সামরিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
ব্রেকিং