এআই-নকশাকৃত প্রথম ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:২২, ৩০ জুলাই ২০২৬

এআই-নকশাকৃত প্রথম ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা

জনস্বাস্থ্যের জন্য এআই-নকশাকৃত বিশ্বের প্রথম ভ্যাকসিনের গুরুত্ব কী? ছবি: ইউরো নিউজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বিশ্বের প্রথম মানব ভ্যাকসিনের প্রাথমিক মানব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বর্তমানে ভ্যাকসিনটি আরও বিস্তৃত পর্যায়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এই ভ্যাকসিনটি সারবেকোভাইরাস (Sarbecovirus) পরিবারের ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে তৈরি করা হয়েছে। এ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ভাইরাসগুলোর মধ্যে রয়েছে সার্স (SARS) এবং সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2), যা কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী।

প্রচলিত ভ্যাকসিনের মতো বর্তমান ভাইরাসের ধরনকে লক্ষ্য না করে, এই ভ্যাকসিনটি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ভাইরাসের পরিবর্তনও বিবেচনায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এ জন্য গবেষকরা এআই-এর সাহায্যে বিভিন্ন করোনাভাইরাস বিশ্লেষণ করে একটি 'সুপার অ্যান্টিজেন' তৈরি করেন, যা ভাইরাসগুলোর সাধারণ বৈশিষ্ট্যকে লক্ষ্য করে কাজ করে।

ভ্যাকসিনটির আরেকটি বিশেষত্ব হলো এটি সুঁইবিহীন (Needle-free)। প্রচলিত সিরিঞ্জের বদলে বিশেষ জেট ইনজেক্টর প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

প্রথম ধাপের পরীক্ষায় মাত্র ৩৯ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এতে ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং সহনীয় বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে। তবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মাঝারি মাত্রায় তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ২০০ জনকে নিয়ে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা চলছে, যেখানে এর কার্যকারিতা আরও বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

গবেষণার ফলাফল জার্নাল অব ইনফেকশন-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে এআই-নির্ভর নয়। এআই সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের নকশা তৈরিতে সহায়তা করলেও শেষ পর্যন্ত ল্যাব পরীক্ষা, প্রাণীর ওপর গবেষণা এবং মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমেই এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষকদের দাবি, একই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ফ্লু) এবং ইবোলা-র মতো রোগের জন্যও সার্বজনীন ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সফল হলে এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে নতুন মহামারি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি বাস্তবে ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে আরও বড় পরিসরের ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা জরুরি।

সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে

আরও পড়ুন