নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:০৬, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
শীতকালে কেন মাথাব্যথা বেশি হয় - ছবি: সংগ্রহীত
শীত মৌসুমে অনেক মানুষই তীব্র মাথাব্যথায় ভোগেন। সাধারণ সমস্যা মনে হলেও অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হতে পারে। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের মধ্যেই এই সমস্যা দেখা যায় এবং কখনও তা দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাব্যথার ধরন শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।
মাথাব্যথার প্রধান ধরন ও কারণ
১. টেনশন বা চাপজনিত মাথাব্যথা
এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সাধারণত কপাল কিংবা ঘাড়ের পেছনে চাপ বা শক্ত করে বাঁধা অনুভূতি হয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধে বেশিরভাগ সময় আরাম মেলে।
কারণ: মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা, ঘুমের ঘাটতি, ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা।
২. মাইগ্রেন
টেনশন হেডেকের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র হয়। এর সঙ্গে বমিভাব, আলো বা শব্দে অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা এবং কখনও চোখে ঝলমলে বা ঝাপসা দেখার সমস্যা হতে পারে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ এই সমস্যায় আক্রান্ত।
কারণ: হরমোনের পরিবর্তন, চকলেট বা চিজজাত খাবার, অতিরিক্ত বা কম ক্যাফেইন, আবহাওয়ার পরিবর্তন ও অনিয়মিত ঘুম।
৩. ক্লাস্টার হেডেক
এই ধরনের মাথাব্যথা তুলনামূলক কম হলেও ব্যথা অত্যন্ত তীব্র হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর বা নির্দিষ্ট চক্রে এটি দেখা দেয় এবং অনেক সময় রাতে ঘুম ভেঙে যায়। সাধারণত মাথার একপাশ বা চোখের চারপাশে ব্যথা অনুভূত হয়।
কারণ: অ্যালকোহল সেবন, ধূমপান, উচ্চতায় অবস্থান, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বা কিছু ওষুধ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ কঠিন।
৪. সাইনাসজনিত মাথাব্যথা
সাইনাসে সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে মাথা ভারী লাগে এবং কপাল, গাল ও চোখের আশপাশে চাপ অনুভূত হয়।
উপসর্গ: নাক বন্ধ, মুখে চাপ, নাক দিয়ে তরল পড়া বা কখনও জ্বর। ডিকনজেস্ট্যান্ট, নাক পরিষ্কার রাখা বা প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর হতে পারে।
৫. ক্যাফেইন-সম্পর্কিত মাথাব্যথা
নিয়মিত চা বা কফি পানকারী হঠাৎ ক্যাফেইন কমালে বা অতিরিক্ত গ্রহণ করলে মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
লক্ষণ: বিরক্তি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি। ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো ও পর্যাপ্ত পানি পান এতে সহায়ক।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাথাব্যথা যদি ঘনঘন হয়, অসহনীয় হয়ে ওঠে বা সঙ্গে অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, অনেক সময় এটি কোনো গুরুতর রোগের পূর্বাভাসও হতে পারে।
ব্রেকিং