মিমের ঝড়ে মোদি, কপালে কাটাকুটি খেল জেন-জি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:৩৬, ৩০ জুলাই ২০২৬

মিমের ঝড়ে মোদি, কপালে কাটাকুটি খেল জেন-জি

“গম্ভীর প্রতিবাদের বদলে জেন-জি বেছে নিয়েছিল বিনোদন” — জন্তর মন্তরের বিক্ষোভে মোদি-ট্রাম্পের পোস্টার। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান।

ভারতে একটি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এক অভূতপূর্ব মোড় নিয়েছে। প্রচলিত বিক্ষোভ, স্লোগান ও অনশনকে ছাপিয়ে এবার জেন-জি প্রজন্ম বেছে নিয়েছে মিম, ব্যঙ্গচিত্র, এআই-নির্ভর ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল কনটেন্টকে।

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে হাজারো শিক্ষার্থী রাস্তায় নামেন। তবে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হয়ে ওঠে অনলাইন ব্যঙ্গ ও হাস্যরস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, সরকারি নীতিনির্ধারক এবং সরকারপন্থী গণমাধ্যমকে ঘিরে তৈরি হওয়া অসংখ্য মিম ও ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

সরকার আন্দোলনকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও তরুণদের সৃজনশীল কনটেন্ট সেই প্রচারণাকে কার্যত ব্যর্থ করে দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভাইরাল মিম, এআই-প্যারোডি এবং ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও জনমতকে আরও উসকে দেয়।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে ব্যাপক সমালোচনা ও জনচাপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এটি ছিল ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল এক ঘটনা, যেখানে সংগঠিত অনলাইন ব্যঙ্গ ও ডিজিটাল সংস্কৃতি সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের নতুন প্রজন্ম দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রতিবাদের ভাষা বদলে গেছে। তারা কেবল রাস্তায় নয়, স্মার্টফোনের পর্দাতেও ক্ষমতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানে—আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় অস্ত্র এখন হাস্যরস।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

আরও পড়ুন