নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৫, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগ্রহীত
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক চাপ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ইউরোপের পোশাক বাজারে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত।
এই চুক্তির আওতায় ভারতের বিভিন্ন পণ্য ইইউভুক্ত ২৭টি দেশের বাজারে বিশেষ শুল্ক সুবিধা পাবে।
চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপে ভারতীয় পোশাকপণ্যের ওপর বিদ্যমান প্রায় ১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি চামড়া, সামুদ্রিক পণ্য, হস্তশিল্প ও গয়নার মতো পণ্যে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো বা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে।
প্রায় ২০ বছর ধরে চলা আলোচনার পর গত মঙ্গলবার এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। ইউরোপীয় কাউন্সিল, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও ভারতের সংসদের অনুমোদন পেলে চুক্তিটি ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের সংবাদমাধ্যম জি নিউজ জানিয়েছে, এই চুক্তির ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির বড় একটি অংশ ভারতের দখলে চলে যেতে পারে বলে দিল্লি আশাবাদী।
১৯৭৫ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এলডিসি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে বাংলাদেশ ইউরোপের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ডেনিম, ট্রাউজার ও টি-শার্টসহ কয়েকটি পণ্যে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে ইইউতে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় চীনের পরেই রয়েছে বাংলাদেশের অবস্থান। এরপর রয়েছে তুরস্ক, ভারত, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির ৫০ শতাংশের বেশি গেছে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ৯৭১ কোটি ডলার।
ইইউর সঙ্গে চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল বলেন, ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি খুব দ্রুত সাত বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি উল্লেখ করেন, শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ইউরোপের বড় বাজার দখল করে রেখেছিল।
জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইইউ বাজারে ভারতীয় পোশাক রপ্তানি বাড়লে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও পণ্যের মানের কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বাড়তি চাপের মুখে পড়তে পারে।
ব্রেকিং