কনটেইনার খালি, কাগজে ৫ কোটি টাকার পণ্য!

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:৪২, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কনটেইনার খালি, কাগজে ৫ কোটি টাকার পণ্য!

কনটেইনারে পণ্য না থাকলেও কাগজপত্রে ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার রপ্তানি দেখানো পাঁচটি চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

কনটেইনারে কোনো পণ্য না থাকলেও নথিপত্রে ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকার পণ্য রপ্তানি দেখানোর অভিযোগে পাঁচটি সন্দেহজনক চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

আটক চালানগুলোতে মোট ১ লাখ ২১ হাজার ১৭৫ কেজি বা প্রায় ১২১ টন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তবে তদন্তে দেখা যায়, ঘোষিত পণ্যগুলোর কোনোটি সংশ্লিষ্ট কনটেইনার ডিপোতে প্রবেশ করেনি।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রপ্তানি-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের সময় ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের পাঁচটি চালান কাস্টমস গোয়েন্দাদের নজরে আসে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় চালানগুলোর গন্তব্য, পণ্যের ধরন ও ঘোষিত ওজনের মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে চালানগুলো আটকে বিস্তারিত যাচাই শুরু করা হয়।

রপ্তানি বিলের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলো ইসাক ব্রাদার্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো থেকে বিদেশে পাঠানোর কথা ছিল। বিষয়টি যাচাই করতে কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ডিপোটিতে সরেজমিনে যান এবং ঘোষিত পণ্য দেখাতে বলেন।

তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ কিংবা পণ্য খালাস ও পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কোনো পণ্য দেখাতে পারেননি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানির জন্য ঘোষিত এসব পণ্য কখনোই ডিপোতে প্রবেশ করেনি।

পণ্য ডিপোতে না ঢুকলেও কীভাবে এসব চালানের কাস্টমস-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

কাস্টমসের নথি অনুযায়ী, পাঁচটি চালানে মোট ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৩০৪ মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার আনুমানিক মূল্য ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

অর্থাৎ বাস্তবে পণ্যের অস্তিত্ব না থাকলেও প্রায় ১২১ টন পণ্য রপ্তানি করা হয়েছে বলে কাগজপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটি যে পরিমাণ কাঁচামাল আমদানি করেছে, তার তুলনায় ঘোষিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ অস্বাভাবিক বেশি। সাধারণত আমদানি করা কাঁচামাল ও উৎপাদিত রপ্তানি পণ্যের পরিমাণের মধ্যে যৌক্তিক সামঞ্জস্য থাকার কথা। এখানে সেই সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি।

কাস্টমস গোয়েন্দারা এখন খতিয়ে দেখছেন, বাস্তবে কোনো পণ্য না থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে রপ্তানি দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল কি না। পাশাপাশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, পণ্য খালাস ও পরিবহনকারী, ডিপো কর্তৃপক্ষ এবং কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করা হচ্ছে।

বিশেষ করে পণ্য ডিপোতে প্রবেশ না করেই কীভাবে কাস্টমসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও জড়িতদের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে কাস্টমস আইনসহ প্রযোজ্য অন্যান্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

আরও পড়ুন