এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে শতভাগ বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:৫৫, ১৭ আগস্ট ২০২৬

এস আলমের বিদ্যুৎ কোম্পানিকে শতভাগ বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ

ছবি: সংগৃহীত

অর্থ পাচার ও ব্যাংক থেকে অর্থ লুটপাটের অভিযোগে আলোচিত এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডকে শতভাগ মার্জিনে পণ্য আমদানির সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বাঁশখালীতে অবস্থিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির আমদানি কার্যক্রমে পুরো অর্থায়ন করতে পারবে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক।

রোববার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এসএস পাওয়ার-১ লিমিটেডের ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের নির্দিষ্ট একটি ধারা প্রয়োগ করা হবে না। ফলে প্রতিষ্ঠানটি কাঁচামালসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য এলসি খুললেও আগাম কোনো অর্থ জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯৩-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতাকে সাধারণভাবে নতুন ঋণ বা আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে এবং সেটি ইচ্ছাকৃত খেলাপি না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

এসএস পাওয়ার-১ বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি কার্যক্রমে শতভাগ মার্জিন সুবিধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুমোদন চেয়েছিল ব্যাংকটি। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ছাড় দিয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন ঋণ সুবিধা সংকটে পড়ে। পাশাপাশি একাধিক মামলা ও আর্থিক সংকটের কারণে তাদের বেশিরভাগ ব্যবসা চাপে পড়ে।

বর্তমানে এস আলম গ্রুপের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যবসাগুলো তুলনামূলকভাবে সক্রিয় রয়েছে। ভোগ্যপণ্য খাতের ব্যবসাও সীমিত পরিসরে চলছে। আর্থিক সংকটের কারণে এসএস পাওয়ার-১সহ গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়েছে।

এ অবস্থায় এসএস পাওয়ার-১-এর আমদানি কার্যক্রম সচল রাখতে রূপালী ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭ কক(৩) ধারার প্রয়োগ থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে ব্যাংকটি শতভাগ অর্থায়নের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন