জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার? তারেক বললেন, বিএনপি ‘একাই সক্ষম’

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:৩৯, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার? তারেক বললেন, বিএনপি ‘একাই সক্ষম’

তারেক রহমান - ছবি রয়টার্স

নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি এককভাবেই সরকার গঠনের মতো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।

শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান জানান, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠনের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না। তার ভাষায়, প্রতিপক্ষ যদি সরকারে থাকে, তাহলে কার্যকর বিরোধী দল থাকবে কীভাবে—এই প্রশ্নও সামনে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যেই মূল প্রতিযোগিতা ছিল। তবে ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে যায়। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে, ফলে টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকা দলটি এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।

এই পরিস্থিতিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই দুই দল একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে জামায়াতে ইসলামী আবারও ঐকমত্যের সরকার গঠনে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, জামায়াত কতটি আসন পাবে তা তিনি জানেন না, কিন্তু তারা বিরোধী দলে থাকলে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে—এমনটাই তার প্রত্যাশা।

বিএনপির সদ্য ঘোষিত নির্বাচনি ইশতেহারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ী হলে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনকল্যাণমূলক সরকার গঠন করা হবে।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্পষ্ট করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইক-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ ছিল না, তারা সম্ভাব্য জাতীয় সরকারের অংশ হবে না।

বিএনপি নেতাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ৩০০ আসনের সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়ার বিষয়ে দলটি আশাবাদী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনগুলোতে লড়ছেন তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা।

পররাষ্ট্র নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি ঝুঁকে থাকবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আনাই হবে মূল লক্ষ্য।

শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়েও প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তাহলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারেক রহমান জানান, তাদের নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনই বিএনপির লক্ষ্য। তবে মিয়ানমারে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবে।

সূত্র: রয়টার্স

আরও পড়ুন