নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫:৪৮, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগ্রহীত
আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, লক্ষ্মীপুরে ভোটের সিল তৈরির ঘটনাই এর একটি বড় প্রমাণ। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা ও নিকাব প্রস্তুতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
মাহদী আমিন জানান, লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ছয়টি ভোটের সিল উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার নির্দেশে এসব সিল তৈরি করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দ করা আলামত এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণও মিলেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে পর্যাপ্ত নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিধিমালা অনুযায়ী ভোটার শনাক্তকরণের সময় নারী ভোটারদের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডল খুলে পরিচয় যাচাই কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা হজের ছবি তোলার সময় মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক, একই নিয়ম ভোটগ্রহণের সময়ও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। এছাড়া ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী কক্ষে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে, যা জাল ভোটের আশঙ্কাকে আরও জোরালো করে। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও বিএনপি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে একটি অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে ওই দলের এক নেতার বাড়ি থেকে ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্টাম্প উদ্ধার করা হয়েছে। তার প্রশ্ন, এগুলো কি নির্বাচনের সময় সহিংসতার প্রস্তুতির অংশ? যদি তাই হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই এই সংস্থার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। অথচ বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাড়ির একটি কক্ষই তাদের তথাকথিত কার্যালয় এবং জনবল বলতে মাত্র একজন—যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
তিনি জানান, এর আগেও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে যে, পর্যবেক্ষকের নামে অনুমোদনপ্রাপ্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব বিষয় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন বিএনপির এই নেতা।
ব্রেকিং