জকসুতে আবার ভোট গণনা শুরুর অপেক্ষা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:১৬, ৭ জানুয়ারি ২০২৬

জকসুতে আবার ভোট গণনা শুরুর অপেক্ষা

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় বন্ধ থাকার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে ভোট গণনা আবার শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এবার প্রথমে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮ ভোট হাতে গণনা করা হবে। এরপর ওএমআর মেশিনে গণননার সঠিকতা যাচাই করে বাকি ভোট পুরোদমে গোনা হবে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ভোট গণনার স্থল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এসে এ ঘোষণা দেন নির্বাচন কমিশনার কানিজ ফাতেমা কাকলী।
পরে রাত সাড়ে পৌনে ১টার দিকে ২৭৮ ভোট হাতে গণনার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার কানিজ ফাতেমার বক্তব্য অনুযায়ী প্রথমে নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রাপ্ত এসব ভোট মান্যুয়াল পদ্ধতিতে গণনা করা হবে। পরে ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে গণনার সঠিকতা যাচাই করতে সেগুলো ছয়টি মেশিনের মধ্যে গণনা করা হবে।

এরপর যেসব মেশিনের ফল ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া ফলের কাছাকাছি হবে শুধু সেগুলো দিয়ে বাকি ভোট গণনা পুরোদমে শুরু হবে।

এর আগে রাত ৭টার দিকে ওএমআর মেশিনে সঠিক ফল না আসায় ভোট গণনা স্থগিত রাখা হয়।

কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চলে মেশিনগুলোর বিপত্তি দূর করার। তবে সমস্যার সমাধান মেলেনি।

তখন রাত ১০টার দিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলোর ভিপি, জিএস ও এজিএসদের নিয়ে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। এতে উপাচার্য, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, শিক্ষক সমিতির সদস্যসহ অন্যান্যরা উপস্থিত।

ওই সভায় আবার ভোট গণনা শুরুর আগে ৩০০ এর কাছাকাছি ভোট পড়েছে এমন বিভাগের ভোট আগে হাতে গুনে পরে ওএমআর মেশিনের যথাযথা নির্ণয় করার সিদ্ধান্ত হয়।

ভোট গণনায় দুই কোম্পানির ছয়টি ওএমআর মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্যানেলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার কানিজ ফাতেমা এসে বৈঠকের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আবার ভোট গণনা শুরুর কথা বলেন। তার ঘোষণার আরও আধা ঘণ্টা পর নৃবিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনা শুরু হয়।

এদিকে বিপত্তির কারণে দেরি হওয়ার পর ভোট গণনা কতক্ষণে শেষ হতে পারে সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা।

এর আগে গণনার সঠিকতা যাচাই করতে গিয়ে একটি ভোটে গড়মিল হওয়ায় ভোট গণনার কাজ সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই থমকে যায়।

নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাইকে ঘোষণা দেন, “ওএমআর মেশিনে আমরা তিন দিন ট্রায়াল করেছি; তখন কোনো সমস্যা ছিল না। টেকনিক্যাল কারণে ত্রুটি ধরা পড়েছে।

“এখন কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের ভিপি জিএস প্রার্থী যারা আছেন, তাদের নিয়ে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে বসব আমরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আমরা মিডিয়াকে জানিয়ে দেব।”

মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ও একটি হলের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে সব ব্যালট বাক্স নিয়ে আসা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ছয়টি ওএমআর (অপটিকাল মার্ক রিকগনিশন) মেশিনে সেখানে কেন্দ্রীয় সংসদের ভোট গণনা শুরু হয়।

শুরুতে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ভোট গণনা শুরু হয়। একজন ভোটারের ব্যালটের তিনটি পাতা তিনটি মেশিন দেওয়া হয় গণনার জন্য।

সেই গণনা ঠিক আছে কি না, তা যাচাই করার জন্য ওই একই ব্যালটের তিন পাতা দেওয়া হয় অন্য তিন ওএমআর মেশিনে।

কিন্তু যাচাই করার এ কাজে একটি ভোটের পার্থক্য হওয়ায় বিপত্তিতে পড়ে নির্বাচন কমিশন। কেন এটা ঘটছে, তা বুঝতে না পারায় ভোট গণনার কাজ স্থগিত রাখা হয়।

অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম রাত ৯টার দিকে মাইকে বলেন, “দুইবারে গণনার ক্ষেত্রে আমরা অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করছি। প্রতিবন্ধকতা কোথায় ঘটেছে সেটা আমরা ফাইন্ড আউট করে কিছুক্ষণের মধ্যে জানিয়ে দেব।”

কিন্তু গলদ কোথায় সেটা খুঁজে না পাওয়ায় আধা ঘণ্টা পর ভিপি জিএস প্রার্থীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসার ঘোষণা দেন এই নির্বাচন কমিশনার।

এ সমস্যার সমাধান করতে না পারলে কী হবে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের একজন সদস্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সেক্ষেত্রে হাতে গণনার কথা ভাবতে হবে।”

জকসু নির্বাচনে ভোটার ছিলেন ১৬ হাজার ৬৪৫ জন। সেখানে প্রায় ৬৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে এর আগে ধারণা দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার জুলফিকার মাহমুদ।

একই দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদেও ভোট হয়েছে। হল সংসদের মোট ভোটার ছিলেন ১২৪২ জন। সেখানে প্রায় ৭৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।

হল সংসদের ব্যালট ছিল এক পাতার। সেসব ব্যালট গোনার কাজ এখনো শুরু হয়নি।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন