‘নন-এআই’ ছবি চেনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: ইনস্টাগ্রাম প্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:৫৮, ৪ জানুয়ারি ২০২৬

‘নন-এআই’ ছবি চেনাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: ইনস্টাগ্রাম প্রধান

২০২৫ সালজুড়ে আমাদের বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের ফিড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের তৈরি কনটেন্টে সয়লাব ছিল। এখন ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম মোসেরিও জানিয়ে দিলেন, আগামীতে বাস্তব ছবির চেয়ে এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিওর সংখ্যাই বেশি হবে।

মোসেরি বলেছেন, শিগগিরই এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি কনটেন্ট মানুষের তোলা সাধারণ ছবি বা দৃশ্যকেও ছাড়িয়ে যাবে। আর এই পরিবর্তনের প্রভাব কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা নির্মাতা ও ফটোগ্রাফারদের জন্য হবে ‘সুদূরপ্রসারী ও গুরুত্বপূর্ণ’।

২০২৬ সালে ইনস্টাগ্রামের ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা নিয়ে দীর্ঘ এক পোস্টে মোসেরি নিজের এসব চিন্তাভাবনা শেয়ার করেছেন। এআই কীভাবে প্ল্যাটফর্মটিকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে, সে সম্পর্কেও স্পষ্ট ও অকপট মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন তিনি।

মোসেরি লিখেছেন, “একজন কনটেন্ট নির্মাতাকে আগে যা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলত যেমন তার সততা, মানুষের সঙ্গে যোগ হওয়ার সক্ষমতা এবং এমন নিজস্ব কণ্ঠস্বর যা নকল করা সম্ভব নয়, তা-ই এখন সঠিক এআই টুলের মাধ্যমে যে কারো হাতের নাগালে চলে এসেছে। এখন আমাদের সামাজিক মাধ্যম ফিডগুলো কৃত্রিম জিনিসে ভরে উঠছে।”

তবে এই আমূল পরিবর্তন নিয়ে মোসেরি খুব একটা উদ্বিগ্ন নন। তার ধারণা, বর্তমানে অনেক ‘মানসম্মত এআই কনটেন্ট’ও তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেছেন, প্ল্যাটফর্মটির এখন উচিত কৃত্রিম বিভিন্ন ছবি চিহ্নিত করার চিরাচরিত পদ্ধতি বদলে ফেলা।

মোসেরি বলেছেন, কেবল ‘নকল কনটেন্ট’ খুঁজে বের করার পেছনে না ছুটে বরং ‘আসল মিডিয়ার ফিঙ্গারপ্রিন্টিং বা সত্যতা নিশ্চিতে’র দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, এআই কনটেন্ট চেনার জন্য যে ওয়াটারমার্ক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় তা খুব একটা নির্ভরযোগ্য নয়। এসব ওয়াটারমার্ক খুব সহজেই মুছে ফেলা যায় এবং মানুষও এগুলোকে খুব একটা পাত্তা দেয় না। মেটার নিজস্ব ‘এআই লেবেল’ও স্পষ্ট নয়। এ বছর এআইয়ের পেছনে হাজার হাজার কোটি ডলার খরচ করলেও মেটা স্বীকার করেছে, প্ল্যাটফর্মে কোনটি এআই দিয়ে তৈরি বা এডিট করা কনটেন্ট তা সঠিকভাবে শনাক্তের সক্ষমতা তাদের নেই।

তবে খোদ ইনস্টাগ্রাম প্রধান মোসেরির বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মেলে, যেখানে ‘এআই স্লপ’ বা কৃত্রিমভাবে তৈরি নিম্নমানের কনটেন্টের জয় হচ্ছে সেখানে ইনস্টাগ্রামের ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীকে কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা বোঝানোর প্রশ্নে সেটা মেটার নয়, বরং অন্য কারো দায়িত্ব হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

তার ধারণা অনুসারে, ক্যামেরা নির্মাতা, বিশেষ করে ফোন ও ক্যামেরা উৎপাদকদেরই এমন একটি ব্যবস্থা বের করা উচিত, যা ছবি তোলার মুহূর্তেই তার ‘আসল’ হওয়ার প্রমাণ বা সত্যতা নিশ্চিত করবে। বিষয়টি শুনতে অনেকটা ওয়াটারমার্কিং প্রযুক্তির মতোই মনে হয়।

তবে এত বিশাল পরিসরে এই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে বা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।

মোসেরির এই অবস্থান অনেক ফটোগ্রাফার ও নির্মাতাকে আরও ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে, যারা এরইমধ্যে ইনস্টাগ্রামের ওপর বিরক্ত। নিয়মিত মোসেরির কাছে অভিযোগ করে আসছেন, ইনস্টাগ্রামের ‘অ্যালগরিদম’ কেন তাদের বিভিন্ন পোস্টকে নিয়মিত নিজস্ব ফলোয়ারদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে না।

তবে মোসেরি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্মাতাদের এসব অভিযোগ আসলে ইনস্টাগ্রাম সম্পর্কে পুরোনো এক ধ্যান-ধারণা থেকে আসছে। তার মতে, পরিপাটি করে সাজানো বা ‘পলিশড’ বর্গাকার ছবির ফিড এখন ‘মৃত’।

মোসেরি বলেছেন, বিভিন্ন ক্যামেরা কোম্পানি সবাইকে ‘অতীতের পেশাদার ফটোগ্রাফারদের’ মতো দেখানোর চেষ্টা করে আসলে ভুল সৌন্দর্যবোধের ওপর বাজি ধরছে। এর বদলে একজন নির্মাতা যে ‘আসল’ ও কোনো এআই নয় তা প্রমাণের উপায় হবে আরও বেশি কাঁচা বা ‘র’ ও দেখতে অতটা সুন্দর নয় বা অতটা আকর্ষণীয় নয়।

তার ভাষ্য, “এমন পৃথিবীতে নিজেকে এআই থেকে আলাদা প্রমাণ করতে চাইলে এখন থেকে আর নিখুঁত ছবি নয়, বরং আপনার বাস্তব জীবনের অগোছালো এবং ‘খুঁতওয়ালা’ ছবিগুলোই বেশি বেশি পোস্ট করুন!”

 

আরও পড়ুন