প্রকাশ: ০৯:৫২, ৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫৭, ৯ জুলাই ২০২৬
সদ্য বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের যুগ্ম কমিশনার (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তা কাজিয়া সুলতানাকে (পরিচিতি নম্বর: ৩০০২৮৫) ঘিরে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা এবং তার স্বামী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মহিউদ্দীন আহমেদ মুরাদের নামে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে বিপুল সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র ও অনুসন্ধানে তাদের এই ‘আলাদিনের চেরাগ’ পাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দম্পতি নামে-বেনামে রাজধানীর একাধিক অভিজাত এলাকায় প্লট, ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস গড়ে তুলেছেন। জহুরুল ইসলাম সিটি, এফ ব্লক, সেক্টর-১, রোড-৩, বাড়ি-১৯।: ৩ কাঠা (স্বামী মহিউদ্দীন আহমেদের নামে নিবন্ধিত)।২০১৯ সালের ৩১ মার্চ খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমিটি মাত্র ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকায় রেজিস্ট্রি দেখানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রকৃত ক্রয়মূল্য ছিল প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।সেখানে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আটতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যা থেকে বর্তমানে মাসিক প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ভাড়া আসে।
বসুন্ধরার আই ব্লকে এই দম্পতির রয়েছে ২৪০০ স্কয়ার ফুটের একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, যা কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা।এল ব্লকে রয়েছে ১২ কাঠার একটি বিশাল প্লট, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। বর্তমানে সেখানে একটি দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। উত্তর বাড্ডার বিটিআই শপিংমলে ‘স্টাইল এমকে’ নামে দুটি দোকান রয়েছে তাদের। প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকায় কেনা এই দোকানগুলো বর্তমানে ভাড়া দেওয়া। উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে প্রায় সাড়ে চার কাঠা জমি এবং গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি রাজকীয় ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। এছাড়া তাদের একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুল্ক কর্মকর্তা কাজিয়া সুলতানা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মজীবনে সবসময়ই ‘গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয়’ চেয়ারে বসেছেন।
এসব আকর্ষণীয় পদায়নের পেছনে এনবিআরের সাবেক সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেনের সরাসরি প্রভাব ও আশীর্বাদ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা আদান-প্রদানের মাধ্যমেই এসব পোস্টিং নিশ্চিত করা হতো। এই প্রভাবের কারণেই দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল থাকলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা কোনো অভিযোগেরই যথাযথ তদন্ত বা নিষ্পত্তি হতে পারেনি।
এত সব অভিযোগের পাহাড় ডিঙিয়েই গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বিসিএস (শুল্ক ও আবগারি) ক্যাডারের যুগ্ম কমিশনার (গ্রেড-৫) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।
উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামী মহিউদ্দীন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরগুলো বন্ধ বা অপ্রাপ্য পাওয়া গেছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, শুল্ক ও কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আরও বেশি জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বারবার সামনে আসার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে চরম অসন্তোষ ও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
রাজস্ব প্রশাসনে সুশাসন ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে এই শুল্ক কর্মকর্তা ও তার স্বামীর অবৈধ সম্পদের খতিয়ান খতিয়ে দেখতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত কমিটির দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।
ব্রেকিং