ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা পাকিস্তানের, আইসিসি উদ্বিগ্ন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:০৬, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা পাকিস্তানের, আইসিসি উদ্বিগ্ন

ছবি: সংগ্রহীত

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত গ্রুপ ম্যাচে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ম্যাচটি বর্জনের ঘোষণা আসার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এ চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিপুল আর্থিক ক্ষতি এড়াতে বিষয়টি সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে সংস্থাটি।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচের প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিদ্ধান্ত জানানোয় বিকল্প সমাধান খোঁজার সীমিত সময় পাচ্ছে আইসিসি। পাকিস্তানের আপত্তি ও উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার পথ খোঁজা হচ্ছে, যেখানে কয়েকটি দেশের ক্রিকেট বোর্ডও মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখছে।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পেছনে পাকিস্তান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি। তবে অতীতে রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপে ম্যাচ বর্জনের নজির রয়েছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ২০০৩ বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ও কেনিয়ার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড মাঠে নামেনি।

ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে, কারণ এবার কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২০১৮ সালে ভারতের বিপক্ষে করা মামলার আলোকে আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি (ডিআরসি)-র ওপর আস্থা রাখতে চায়।

ওই মামলার সূত্রপাত হয় ২০১৪ সালে পিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন না হওয়াকে কেন্দ্র করে। এমওইউ অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দুই দেশের ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ আয়োজনের কথা ছিল। এর বিনিময়ে পিসিবি আইসিসির ‘বিগ থ্রি’ রাজস্ব বণ্টন কাঠামোকে সমর্থন দিয়েছিল।

শুনানিকালে বিসিসিআই শুরুতে কোনো কারণ জানাতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে দাবি করে, ভারত সরকার পাকিস্তান সফরের অনুমতি দেয়নি। লিখিত নির্দেশনার কথা জানতে চাইলে তারা জানায়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মৌখিকভাবে জানানো হয়ে থাকে।

তবে আশঙ্কা রয়েছে, বিসিসিআইয়ের প্রভাবের কারণে এবারও রায় পাকিস্তানের বিপক্ষে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানা কিংবা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও ভাবছে পাকিস্তান।

এদিকে পাকিস্তানের অবস্থানের পেছনে সাম্প্রতিক একটি আইসিসি সিদ্ধান্তও প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই রায়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে ভেন্যু পরিবর্তনের আবেদন নাকচ হওয়ায় বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক আয়োজনগুলোর একটি। গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, একটি ম্যাচ থেকেই সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন ও স্পনসরশিপ বাবদ প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত আয় হয়।

পাকিস্তানের ঘোষণার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে পিসিবিকে সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষায় ‘পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান’ খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বেছে বেছে অংশগ্রহণ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ক্রীড়াসুলভ সততা ও ন্যায্যতার পরিপন্থী।

নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে পাকিস্তান দল মাঠে না নামলে ম্যাচটির পূর্ণ পয়েন্ট পাবে ভারত।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন