বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সব মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করল আইসিসি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:৩৭, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সব মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করল আইসিসি

ছবি: সংগ্রহীত

ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর পর টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিল করেছে আইসিসি। সেই সিদ্ধান্তের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন বিতর্কে জড়াল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বিশ্বকাপ কাভারের জন্য বাংলাদেশ থেকে আবেদন করা সব ক্রীড়া সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা হয়েছে।

আইসিসি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে টি-২০ বিশ্বকাপ কাভার করতে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সবাইকেই একযোগে রিজেক্ট করা হয়েছে। ফলে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে বাংলাদেশ থেকে কোনো সাংবাদিকই মাঠে উপস্থিত থাকতে পারছেন না।

মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে। নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল।

পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। যদিও বাংলাদেশ খেলুক বা না খেলুক— পুরো টুর্নামেন্ট কাভার করার জন্য ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা থেকে শুরু করে প্রতিটি ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছিল। এমনকি জাতীয় দল অংশ না নেওয়া কিছু আসরেও বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকরা বিশ্বকাপ কাভার করেছেন। ক্রিকেটপ্রেমী দেশের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ মানেই বাড়তি আগ্রহ, আর সেই আগ্রহের কেন্দ্রেই থাকে গণমাধ্যম।

বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সভাপতি আরিফুর রহমান বাবু এই সিদ্ধান্তকে অপমানজনক ও অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললেও সাংবাদিকদের কাভার করার ন্যায্য অধিকার রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কাতেও ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে— সেখানে গিয়ে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত ছিল।

তিনি আরও জানান, অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের মেইলে কোনো ধরনের ব্যাখ্যা বা আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি। এ অবস্থায় বিএসজেএ, বিএসপিএ এবং বিএসজেসি— তিন সংগঠন একসঙ্গে বিসিবি কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে পারে।

ক্রীড়া সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— ক্রিকেট দলের পর এবার কি বাংলাদেশের মিডিয়াকেও চাপের মুখে ফেলছে আইসিসি? এই একতরফা সিদ্ধান্তের পেছনের ব্যাখ্যা দ্রুত জানানো উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন