‘কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’, সম্পত্তি বিল নিয়ে শফিকুর রহমান

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:৫২, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক’, সম্পত্তি বিল নিয়ে শফিকুর রহমান

সংসদে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান/ ছবি: সংগৃহীত

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর কিছু বিধান কোরআন ও সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি চলমান সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ বক্তব্য দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি কার্যকর হলে ইসলামী বিধান অনুসরণকারীদের জন্য এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১ থেকে ১৪ নম্বর আয়াতের বিষয়বস্তু বিবেচনায় নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

জামায়াত আমিরের ভাষ্য, উইল বা হেবার মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তি দেওয়া হলে মালিকানা ও ভোগের বিষয়টি ইসলামী বিধানের আলোকে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন। মৃত্যুর পর সম্পত্তি কার্যকরভাবে দেওয়ার বিষয়টি হেবার পরিবর্তে ওসিয়তের আওতায় পড়ে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ওসিয়তের ক্ষেত্রেও শরিয়াহতে নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বিলে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় না থাকলে শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে বিরোধ তৈরি হতে পারে।

নিজেকে ইসলামী আইন বিশেষজ্ঞ না দাবি করে শফিকুর রহমান বলেন, তিনি ফকিহ বা মুফতি নন; কোরআন ও হাদিসের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে যা বুঝেছেন, সংসদে সেটিই তুলে ধরেছেন।

তিনি আরও বলেন, আইনটি মানুষের ঈমান ও আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া এটি কার্যকর করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত হকদারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পিতা-মাতার স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

শফিকুর রহমানের প্রস্তাব, বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস না করে শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হোক। তারা বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিলে তা সংসদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রক্রিয়ায় ইসলামী ফাউন্ডেশনকে সম্পৃক্ত করারও পরামর্শ দেন জামায়াত আমির। তার মতে, ইসলামী ফাউন্ডেশন দেশের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি স্কলারদের নিয়ে বিলটির সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সংসদের কাছে মতামত দিতে পারে।

স্থায়ী কমিটি এ উদ্যোগ নিলে সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানো এবং ইসলামী বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো সিদ্ধান্ত থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

আরও পড়ুন