পুরোনো প্রযুক্তিই কি সাইবার হামলা থেকে বেশি নিরাপদ?

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮:৫৫, ২৪ আগস্ট ২০২৬

পুরোনো প্রযুক্তিই কি সাইবার হামলা থেকে বেশি নিরাপদ?

হ্যাকারদের নজর এড়াতে পুরোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন বিশেষজ্ঞরা; আধুনিক প্রযুক্তির তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে পুরোনো প্রযুক্তিই বেশি নিরাপদ। ছবি/ বিবিসি

নতুন প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই সাইবার হামলা ও নজরদারির ঝুঁকিও বাড়ছে। এ কারণে কিছু বিশেষজ্ঞ নিরাপত্তার জন্য পুরোনো ও কম ব্যবহৃত প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ মিকো হিপোনেন বহু বছর ধরে পুরোনো ই-মেইল সফটওয়্যার ইউডোরা ব্যবহার করেছেন। তার যুক্তি, হ্যাকাররা সাধারণত বেশি ব্যবহৃত ও আধুনিক সিস্টেমকেই টার্গেট করে। 

হিপোনেন এই ধারণাকে বলেন **‘সিকিউরিটি বাই অ্যান্টিকুইটি’** বা পুরোনো প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপত্তা। অর্থাৎ, কোনো প্রযুক্তি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় সেটি আর সাইবার অপরাধীদের কাছে আকর্ষণীয় না-ও থাকতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বশেষ আপডেট ও নিরাপত্তা প্যাচযুক্ত সফটওয়্যারই সবচেয়ে নিরাপদ। 

এই ধারণার আরেকটি উদাহরণ পাওয়া যায় আয়ারল্যান্ডে। আধুনিক স্যাটেলাইটভিত্তিক GPS ব্যবস্থায় জ্যামিংয়ের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ পুরোনো গ্রাউন্ডভিত্তিক রেডিও নেভিগেশন বীকন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

কম্পিউটার বিজ্ঞানী ম্যাট বিশপও পুরোনো প্রযুক্তির এই সুবিধা নিজের গবেষণায় দেখেছেন। ১৯৯০-এর দশকে তিনি ও তার সহকর্মীরা হ্যাকারদের শনাক্ত করার জন্য একটি ‘হানিপট’ তৈরি করেছিলেন। সেখানে তারা পুরোনো সফটওয়্যারের সংস্করণ ব্যবহার করেন। আশ্চর্যের বিষয়, হ্যাকাররা সেটিকে প্রায় টার্গেটই করেনি। কিন্তু সফটওয়্যারটি নতুন সংস্করণে আপগ্রেড করার পর হামলার সংখ্যা বেড়ে যায়। 

একই কারণে কেউ কেউ স্মার্টফোনের বদলে পুরোনো ‘ডাম্ব ফোন’ ব্যবহার করেন। হিপোনেনের পরিচিত একজন এখনো ২৫ বছর আগে বাজারে আসা Nokia 9210 ব্যবহার করেন। ফোনটির অপারেটিং সিস্টেমে পুরোনো দুর্বলতা থাকলেও সেটিকে লক্ষ্য করে এখন আর তেমন হামলা হয় না। 

পুরোনো প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার উদাহরণ সামরিক ক্ষেত্রেও রয়েছে। ইউক্রেনে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা কাগজের মানচিত্র, লেমিনেটেড ম্যাপ ও কম্পাস ব্যবহার করছেন। কারণ এগুলো ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের মাধ্যমে অকার্যকর করা যায় না। সামরিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ থমাস উইথিংটন একে **‘অ্যানালগ রেজিলিয়েন্স’** হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 

GPS জ্যামিংয়ের কারণে আয়ারল্যান্ডেও পুরোনো রেডিও বীকন ব্যবহারের সময় বাড়ানো হচ্ছে। দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি তাদের পরিকল্পিত স্থিতিস্থাপকতা কৌশলের অংশ। 

ডেটা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও পুরোনো প্রযুক্তি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৫০-এর দশকে উদ্ভাবিত ম্যাগনেটিক টেপ আজও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও সরকারি সংস্থায় বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে। র‍্যানসমওয়্যার হামলার সময় কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশাধিকার হারালেও টেপে রাখা ব্যাকআপ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব। 

তবে বিশেষজ্ঞরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য পুরোনো প্রযুক্তিতে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না। তাদের মতে, দৈনন্দিন কাজে সর্বশেষ ও আপডেটেড প্রযুক্তিই সবচেয়ে নিরাপদ। কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে **নতুন প্রযুক্তি মানেই সবসময় সবচেয়ে নিরাপদ প্রযুক্তি নয়**—এ বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। 
 

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন