ডার্ক ম্যাটারের সন্ধানে বড় সাফল্য, মিলল রহস্যময় সংকেত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:১৫, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডার্ক ম্যাটারের সন্ধানে বড় সাফল্য, মিলল রহস্যময় সংকেত

সাউথ ডাকোটায় ভূগর্ভে স্থাপনের আগে LUX-ZEPLIN ডার্ক ম্যাটার পরীক্ষার মূল ডিটেক্টর। ছবি: আল জাজিরা

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটার ব্ল্যাক হিলসের গভীরে একটি পুরোনো সোনার খনিতে পরিচালিত পরীক্ষায় রহস্যময় এক কণার প্রতিক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, ঘটনাটি ডার্ক ম্যাটার বা অন্ধকার পদার্থের সম্ভাব্য কণার সঙ্গে মিল রয়েছে। তবে এটিকে এখনো ডার্ক ম্যাটারের নিশ্চিত শনাক্তকরণ বলা হচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫০ বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। ‘লাক্স-জেপিলিন’ (LZ) নামের পরীক্ষাটি পরিচালিত হয় সাউথ ডাকোটার স্যানফোর্ড আন্ডারগ্রাউন্ড রিসার্চ ফ্যাসিলিটিতে। সেখানে ভূগর্ভস্থ একটি বিশাল ট্যাংকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ তরল জেনন রাখা হয়েছে। ট্যাংকটির চারপাশে রয়েছে শত শত আলোকসংবেদী সেন্সর।

গবেষণাটির মূল লক্ষ্য ছিল ‘উইম্প’ (WIMP) নামে ধারণা করা একটি কণার অস্তিত্বের সম্ভাব্য প্রমাণ খুঁজে বের করা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, কোনো উইম্প যদি জেনন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে, তাহলে নির্দিষ্ট শক্তিস্তরে দুটি আলোর ঝলক তৈরি হতে পারে।

২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সংগৃহীত ২২০ দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ২০২৩ সালের ১৬ জুন এমন একটি ঘটনা শনাক্ত করেন। ঘটনাটি তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও এটি ডার্ক ম্যাটারের সরাসরি প্রমাণ নয়।

গবেষণার প্রধান স্যাম এরিকসেন বলেন, পরীক্ষার যন্ত্র ও সম্ভাব্য পটভূমি-সংক্রান্ত সংকেত সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের বোঝাপড়া এতটাই উন্নত যে এমনকি একটি ব্যতিক্রমী ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ।

তবে গবেষকেরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। LZ প্রকল্পের মুখপাত্র ও ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ রিক গেইটস্কেল বলেন, তারা এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চান না এবং ডার্ক ম্যাটার শনাক্ত করার দাবি করছেন না।

ডার্ক ম্যাটার কী?

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় ২৭ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার। এটি আলো বা তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ প্রতিফলিত করে না, ফলে সরাসরি দেখা বা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। তবে এর মহাকর্ষীয় প্রভাবের মাধ্যমে এর অস্তিত্ব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা ধারণা পেয়েছেন।

১৯৩০-এর দশকে সুইস জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফ্রিটজ জুইকি প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। কোমা ক্লাস্টারের গ্যালাক্সিগুলো দৃশ্যমান পদার্থের তুলনায় অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে চলছিল। এতে তিনি ধারণা করেন, সেখানে অদৃশ্য কোনো পদার্থের মহাকর্ষীয় প্রভাব রয়েছে।

অন্যদিকে, মহাবিশ্বের প্রায় ৬৮ শতাংশ ‘ডার্ক এনার্জি’ বা অন্ধকার শক্তি বলে ধারণা করা হয়। এটি মহাবিশ্বের সম্প্রসারণকে আরও দ্রুততর করছে। আর দৃশ্যমান ও স্পর্শযোগ্য সাধারণ পদার্থের পরিমাণ মাত্র প্রায় ৫ শতাংশ।

সাম্প্রতিক পরীক্ষায় পাওয়া ঘটনাটিকে তাই বিজ্ঞানীরা ডার্ক ম্যাটার গবেষণায় এখন পর্যন্ত LZ পরীক্ষার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংকেতগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সিডনির পদার্থবিদ থেরেসা ফ্রুথ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে একাধিকবার পরীক্ষা চালানোর পরও সংকেতটি টিকে রয়েছে, যা গবেষকদের কাছে বেশ আশাব্যঞ্জক। 

সূত্র: আল জাজিরা

আরও পড়ুন