আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:২০, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
লুসিয়া সিসিচ ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই শিরোপা ধরে রেখেছিলেন। ছবি/ বিবিসি
মিস অস্ট্রিয়া ও মিস্টার অস্ট্রিয়া সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিশন অস্ট্রিয়া সোমবার তাদের ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় এ মৃত্যুর খবর জানায়। সেখানে বলা হয়, “গভীর শোক ও বিস্ময়ের সঙ্গে আমরা জানতে পেরেছি, আমাদের মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ আর নেই।”
তবে এখনো তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করা হয়নি।
২০২৪ সালে লুসিয়া সিসিচ মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন। এরপর নতুন কোনো প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনিই মিস অস্ট্রিয়ার বর্তমান শিরোপাধারী ছিলেন।
মিশন অস্ট্রিয়া জার্মান ভাষায় দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টের অনুবাদে জানায়, “আমরা লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করব।”
“এই কঠিন সময়ে তার পরিবার, বন্ধু এবং কাছের মানুষদের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহানুভূতি রইল।”
মিশন অস্ট্রিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কার্স্টিন রিগার ও তার স্বামী ইয়র্গ স্বাক্ষরিত ওই বার্তায় আরও বলা হয়, লুসিয়া “সবসময় আমাদের মিস অস্ট্রিয়া পরিবারের একটি অংশ হয়ে থাকবেন।”
জনসম্মুখে পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে লুসিয়া তার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি খোলাখুলিভাবেই জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ছোটবেলায় তার চিকিৎসায় নিয়োজিত শিশু চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন।
সেসময় তিনি লিখেছিলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, যারা অসাধারণ প্রচেষ্টার মাধ্যমে বারবার তার জীবন বাঁচিয়েছেন। তাদের কারণে তিনি অনেক কঠিন সময় পার করে পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পেরেছেন।
জীবনজুড়ে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার কারণে লুসিয়া সিসিচকে সাতবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল।
২০২৪ সালে অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম হয়টে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিস অস্ট্রিয়া বিজয়ী জানিয়েছিলেন, জন্মের পরপরই তার প্রথম অস্ত্রোপচার করা হয়।
শৈশবে তার অসুস্থতার প্রভাব সম্পর্কেও তিনি কথা বলেছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, “স্পোর্টস সপ্তাহগুলো আমাকে ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতো। আমার শৈশবটা অন্যদের মতো ছিল না। তবে এটিই আমাকে শক্তিশালী করেছে।”
অস্ট্রিয়ার হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থা হার্জকিন্ডার অস্ট্রিয়াও লুসিয়ার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে।
ফেসবুকে দেওয়া এক শোকবার্তায় সংগঠনটি জানায়, লুসিয়ার অকালমৃত্যুতে তারা “গভীরভাবে শোকাহত”। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন, যা ছিল “খুবই অকাল”।
শোকবার্তায় বলা হয়, লুসিয়া ছিলেন হৃদয় থেকে একজন প্রাণবন্ত ও শিশুসুলভ মানুষ। জন্মগত হৃদ্যন্ত্রের ত্রুটি নিয়ে বেড়ে ওঠা, একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যাওয়া এবং তারপরও সাহস ও আনন্দের সঙ্গে নিজের পথ অনুসরণ করার অর্থ তিনি ভালোভাবেই জানতেন।
সংগঠনটি আরও জানায়, তারা লুসিয়াকে একজন উষ্ণ হৃদয়ের, আনন্দময় ও অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করবে। একই সঙ্গে তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যিনি হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত অন্যদেরও সাহস জোগাতে চেয়েছিলেন।
সূত্র: বিবিসি
ব্রেকিং