আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:২৫, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
একটি মার্কিন এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান। ছবি: আল জাজিরা
ইরানের আকাশে মার্কিন একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত প্যারাসুট নিয়ে মাটির দিকে ‘নিয়ন্ত্রণহীনভাবে পড়ে যাওয়ার’ ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মার্কিন বিমানবাহিনীর এক পাইলট।
সিবিএস নিউজের ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে পাইলটটি ‘ব্রাভো’ নামে পরিচিত হলেও তার আসল পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এপ্রিলের ওই ঘটনার পর এই প্রথম ভূপাতিত বিমানের কোনো পাইলট প্রকাশ্যে নিজের অভিজ্ঞতা জানালেন।
তিনি বলেন, প্যারাসুটের দিকে তাকিয়ে সেটি দেখতে না পাওয়ার মুহূর্তটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। প্যারাসুটের বিভিন্ন অংশ খুলে দেওয়ার চেষ্টা করতে করতেই তিনি নিচে পড়ছিলেন।
ব্রাভোর ভাষ্য অনুযায়ী, মাটিতে আঘাত করার সময় তার গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭০ থেকে ১০০ মাইলের মধ্যে ছিল। এতে তার মেরুদণ্ড, কাঁধ ও হাত ভেঙে যায়। তবু তিনি ঘটনাটিকে ‘অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৩ কোটি ডলার মূল্যের দুই আসনের এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানটি কাঁধ থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত হয়। বিমানে থাকা দুই মার্কিন সেনা বের হয়ে আলাদা হয়ে যান এবং উদ্ধারের অপেক্ষায় ইরানি বাহিনীর কাছ থেকে আত্মগোপন করে থাকেন।
‘আলফা’ নামে পরিচিত অপর সেনাকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, তাকে উদ্ধারের সময় তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়। অন্যদিকে ব্রাভোকে শত্রু এলাকায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানান, ওই অভিযানে একসময় ইরানের ভেতরে ৯০ জনের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছিলেন। তার দাবি, ৪৬ বছরের মধ্যে সেটিই ছিল ইরানের ভেতরে মার্কিন বাহিনীর প্রথম অভিযান।
উদ্ধার অভিযানের সময় মরুভূমির বালিতে কয়েকটি বিমান ও হেলিকপ্টার আটকে যায়। পরে প্রযুক্তি যেন ইরানের হাতে না পড়ে, সে কারণে কয়েকটি মার্কিন উড়োজাহাজ ও ‘লিটল বার্ড’ হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ শুরুর প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর ঘটে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে এর জনপ্রিয়তা কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধটি মার্কিন রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সূত্র: বিবিসি
ব্রেকিং