আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭:০৭, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পশ্চিম ইয়েমেনের তাইজে কাধা ফ্রন্টলাইনের একটি চেকপোস্টে পিকআপে বসানো মেশিনগান পাহারা দিচ্ছেন সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর এক সদস্য। ছবি: আল জাজিরা
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অনুগত সশস্ত্র বাহিনী হুতিদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি অবস্থান পুনর্দখল করে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে অগ্রসর হচ্ছে। এতে অঞ্চলটিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
সোমবার তাইজ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনী রোববার পশ্চিম তাইজে অগ্রসর হয়। এর আগে তারা হুতিদের একটি বড় ধরনের হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।
সরকারি বাহিনীর একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতিদের অবস্থানে বিমান হামলার সহায়তায় এই অগ্রগতি হয়েছে। মোখা, ধুবাব ও আশপাশের এলাকায় হুতিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে হুতিরা সোমবার দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটির সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো—বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে ও গোলাবারুদের গুদাম—এসব হামলার লক্ষ্য ছিল।
হুতিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর পাঁচ দিনে ৩০০টির বেশি বিমান হামলার জবাবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। তবে হুতিদের দাবির বিষয়ে সৌদি আরব তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়েমেনে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সংঘাত গত জুলাইয়ে আবারও তীব্র হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বড় ধরনের সহিংসতা বন্ধ হওয়ার পর এই উত্তেজনা নতুন করে সেই সমঝোতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গত সপ্তাহে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলের কিছু এলাকা দখল করে বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করার পর সংঘাত আরও বেড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ, সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের ১১ শতাংশ এবং এলএনজির ৮ শতাংশ যাতায়াত করে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোর সংঘাতে ইয়েমেনে প্রায় ৮৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজারের বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী জিবুতিতে পৌঁছেছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ব্রেকিং