আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৫২, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হরমুজ প্রণালির কাছে ওমানের মুসান্দাম থেকে দেখা জাহাজগুলো। ছবি: রয়টার্স
হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় একটি জাহাজে গোলার আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট সংস্থা ইউকেএমটিও এ তথ্য জানিয়েছে। হামলায় জাহাজটির কতটা ক্ষতি হয়েছে বা ক্রুদের অবস্থা কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর একদিন আগে সৌদি আরব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়। ইরাক ও সৌদি আরব জানিয়েছে, পাইপলাইনে হামলা চালানো ড্রোনটি ইরাক থেকে এসেছিল। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়।
১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এ সময়ে হরমুজ প্রণালি যুদ্ধের কারণে প্রায় বন্ধ থাকায় পাইপলাইনটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনটি প্রতিদিন ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করছিল, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশ। হামলার পর পাইপলাইনের একটি অংশ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে সৌদি আরবের কার্যত শাসক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা চান বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন তিনটি সূত্র। তবে ওয়াশিংটন আপাতত সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে বলে জানানো হয়।
শুক্রবার হুতিরা লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দাব প্রণালির কৌশলগত দ্বীপ পেরিম দখল করেছে বলে ইয়েমেন সরকারের চারটি সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। সোমবার ওমানে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এ বৈঠক থেকে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন এক ইরানি কর্মকর্তা।
সূত্র: রয়টার্স
ব্রেকিং