নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৪১, ২৪ আগস্ট ২০২৬
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের সাজা বহাল রেখেছেন হাই কোর্ট।ছবি: সংগৃহীত
ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই আসামি হলেন নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীম।
২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দেওয়ার সময় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন নুসরাত। এ ঘটনায় তার পরিবারের করা মামলায় অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মামলা তুলে নিতে নুসরাত ও তার পরিবারকে চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এরই মধ্যে ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে নুসরাতকে সোনাগাজীর একটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পর পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থেকে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।
ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি ওঠে। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে ১৬ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল মামলার ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে আসামিরা হাই কোর্টে আপিল ও জেল আপিল করেন এবং মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথি হাই কোর্টে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে হাই কোর্টের বেঞ্চ এবার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চারজনকে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দিয়েছেন।
নুসরাত হত্যা মামলা দেশের বহুল আলোচিত মামলাগুলোর একটি। তার ওপর চালানো নির্মম হামলা এবং পরবর্তী সময়ে বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছিল।
ব্রেকিং