নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯:১৮, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকার একটি আট তলার ভবন থেকে উদ্ধার বিভিন্ন ডিভাইস। আজ বিকেল ৪টায় সিএমপি কার্যালয়ে-ছবি: প্রথম আলো
চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার জালালাবাদ আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে দেড় মাস ধরে অবস্থান করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক। সেখানে সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম বসিয়ে অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।
পুলিশ জানায়, দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় ওই ভবন ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ২ জন এবং ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এসব তথ্য জানান।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছে পাসপোর্ট ও ভিসার কোনো নথি পাওয়া যায়নি। এসব কাগজপত্র দেশীয় চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
যেভাবে চলত প্রতারণা
পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটির ১৪টি ইউনিটে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কখনো ওয়েবসাইট খুলে আবার কখনো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।
এ ছাড়া ব্যাংক ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কত টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বা এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষা করলে প্রতারণার ধরন ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
বাংলাদেশকে কেন বেছে নিলেন
অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় সেখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এরপর দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় ওই বিদেশি নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে খুলশীর ভবনটি ভাড়া নেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ভবনটির মালিক বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কীভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন এবং তাঁদের ভিসার ধরন কী, তা জানতে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে কক্সবাজারেও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁদের কাছ থেকে বিপুলসংখ্যক আইফোন ও ল্যাপটপ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে খুলশীর ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ব্রেকিং