কক্সবাজারে হোটেল বারে যুবক খুন, পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্তের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:০৬, ২৮ আগস্ট ২০২৬

কক্সবাজারে হোটেল বারে যুবক খুন, পুলিশ হেফাজতে অভিযুক্তের মৃত্যু

কক্সবাজারের হোটেল বারে যুবক হত্যার ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলের বারে কথা-কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নাজিবুল হক রাশেদ (২৯) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আটক মোহাম্মদ সোলাইমান (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকার রেনেসাঁ হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোলাইমানের মৃত্যু হয়।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর মধ্যম নুনিয়ারছড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় সোলাইমানকে আটক করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছিল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় রাশেদ কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে হোটেলের দ্বিতীয় তলার বারে অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে এক পক্ষ বাইরে থেকে কয়েকজন যুবককে ডেকে আনে। তারা বারে ঢুকে রাশেদকে ছুরিকাঘাত করেন।

ছুরিকাঘাতে রাশেদের পেটসহ শরীরের কয়েকটি স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, রাশেদ ফিশারিঘাট এলাকায় ব্যবসা করতেন। তবে তার বিস্তারিত পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১২টার দিকে ফিশারিঘাট এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন সোলাইমানকে আটক করে মারধর করেন এবং পরে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. অহিদুর রহমান জানান, ঘটনার পর হোটেলের বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে রয়েছে।

তিনি বলেন, সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছিল এবং ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামতও সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেনেসাঁ হোটেলের বারটি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ঘটনার সময় বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সেখানে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন