‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে গণপতি হত্যার মানববন্ধনে উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১:৫৭, ২৯ আগস্ট ২০২৬

‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে গণপতি হত্যার মানববন্ধনে উত্তেজনা

গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার ধানমণ্ডি-২৭ এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে ঢাকার ধানমণ্ডিতে আয়োজিত মানববন্ধনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার বিকেলে ধানমণ্ডি-২৭ নম্বর সড়কে মিনা বাজারের সামনে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরীসহ কয়েকজন। বক্তব্যের একপর্যায়ে গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কামাল পাশা।

তিনি বলেন, একটি পরিবারের নিষ্পাপ সদস্যদের এভাবে হত্যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ ধরনের ঘটনা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেন। এরপর সেখানে উপস্থিত তিন ব্যক্তি ওই স্লোগান নিয়ে আপত্তি জানান। এ নিয়ে আয়োজক ও তাদের মধ্যে কিছুক্ষণ কথাকাটাকাটি হয়।

আপত্তি জানানো ব্যক্তিদের একজন বলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল হওয়ায় সামাজিক একটি কর্মসূচিতে কেন দলটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্লোগান দেওয়া হচ্ছে—এটি তাদের প্রশ্ন।

এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও পরে ওই ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে শতাধিক মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। কয়েকজন বক্তব্য দেওয়ার পর কামাল পাশা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে কয়েকজন তরুণ সেটির প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে সাময়িক বাগবিতণ্ডা হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও কিছু সময় ঘটনাস্থলে লোকজন অবস্থান করছিলেন। এ সময় কয়েকজন এসে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন বলে জানান কামাল পাশা চৌধুরী। পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে উপস্থিত ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়।

এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, রংপুরের হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে কয়েকটি সংগঠনের ব্যানারে লোকজন সেখানে অবস্থান করছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বক্তব্য দেওয়ার সময় পেছন থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল জানিয়ে ওসি বলেন, খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করে। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি সেখান থেকে চলে যান। উপস্থিত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন