আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮:৫৯, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
চোখের এক বিরল রোগ হাইপোটোনির চিকিৎসায় যুগান্তকারী সাফল্য পেয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। নতুন এক ইনজেকশন প্রয়োগের পর প্রথমবারের মতো দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা নিকি গাই।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে নিকি জানিয়েছেন, “আমি আগে শুধু আঙুল গুনতে পারতাম, সবকিছু ঝাপসা দেখাত। এখন আমি দেখতে পারছি।”
লন্ডনের মুরফিল্ডস হাসপাতালে হাইপোটোনির চিকিৎসা করা হচ্ছে। মুরফিল্ডসের বিশেষজ্ঞরা স্বল্পমূল্যের, স্বচ্ছ ও পানি-ভিত্তিক হাইড্রোক্সিপ্রপাইল মিথাইলসেলুলোজ নামের একটি জেল তৈরি করেছেন। এটি চোখের মূল অংশে নিয়মিত ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করা হয়। সাধারণত প্রতি তিন থেকে চার সপ্তাহ পরপর একটি করে ইনজেকশন দেওয়া হয়, এবং ১০ মাসের কোর্স শেষ হলে সুফল দেখা যায়।
হাইপোটোনিতে চোখের ভেতরের চাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়, ফলে চোখ নিজেই ভেঙে বা বসে যেতে পারে। নিকির সমস্যা শুরু হয় ২০১৭ সালে ছেলের জন্মের পর। তার ডান চোখে প্রচুর সিলিকন তেল দেওয়ার পরও তেমন উপকার হয়নি। পরবর্তীতে বাঁ চোখেও একই সমস্যা দেখা দেয়।
চিকিৎসক হ্যারি পেট্রুশকিন জানান, চোখের ভেতরে এমন কিছু ভরাট করা হয়েছে যার মধ্য দিয়ে দৃষ্টি ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন, “যে রোগী দুই চোখের দৃষ্টি হারানোর অবস্থায় ছিল, তিনি এখন স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এটা অসাধারণ।”
এ চিকিৎসার মাধ্যমে হাজারো মানুষের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তবে চোখের পেছনের কোষগুলো কার্যকর আছে কি না তার ওপর ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করে।
আইনগতভাবে গাড়ি চালানোর জন্য যে দৃষ্টিশক্তি প্রয়োজন, তার থেকে নিকি এখন মাত্র এক লাইন পিছিয়ে আছেন। আগে তাকে ম্যাগনিফাইং গ্লাস ব্যবহার করতে হতো, এখন কোন সাহায্য ছাড়াই দৈনন্দিন কাজ করছেন।
মুরফিল্ডস আই চ্যারিটির অর্থায়নে ৩৫ জন রোগীর ওপর এই চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রথম আটজন রোগীর ফলাফলে দেখা গেছে, সাতজন ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। গবেষকরা আশা করছেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও নির্ধারণ করা সম্ভব হবে— কারা এই চিকিৎসা থেকে সর্বাধিক উপকৃত হতে পারেন।
সূত্র: বিবিসি
ব্রেকিং