নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০:১৮, ২৬ আগস্ট ২০২৬
মান পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় বাজারের ১০ পণ্য নিয়ে বিএসটিআইয়ের সতর্কতা। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডের নির্ধারিত মান পূরণ করতে না পারায় বম্বে সুইটসের পাঁচ ধরনের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০টি পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একই সঙ্গে এসব পণ্যের জন্য দেওয়া লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই। পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কেনার জন্য ভোক্তাদেরও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়মিত বাজার তদারকির অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব অত্যাধুনিক পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়। এতে অধিকাংশ পণ্যের মান নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী পাওয়া গেলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঘি, বাটার অয়েল ও মসলা পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে।
পরীক্ষায় বাঘাবাড়ি ব্র্যান্ডের ঘিতে প্রয়োজনীয় মিল্ক ফ্যাট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। সংস্থাটির দাবি, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ঘি হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বম্বে সুইটস অ্যান্ড কোং লিমিটেডের পাঁচ ধরনের মসলায় বাংলাদেশ মান অনুযায়ী মোট অ্যাশ ও লবণের পরিমাণ নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। ব্যর্থ হওয়া পণ্যগুলো হলো—কারি পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা এবং মাছের মসলা।
এ ছাড়া পরীক্ষায় নিম্নমানের ঘি ও বাটার অয়েল হিসেবে আরও যেসব পণ্য শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে বাঘাবাড়ি প্রিমিয়াম ঘির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ড, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টসের ‘অরুন বাঘাবাড়ী’, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘নিউ রাঁধুনী’ ও ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি এবং এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল।
বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় এসব পণ্যের রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালু ও পলেন্সকে ভ্যালুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড নির্ধারিত সীমার বাইরে পাওয়া গেছে।
বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্বে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য ঠেকাতে নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত রেখেছে বিএসটিআই।
পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ক্রেতাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোনো পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ, ভেজাল, প্রতারণা কিংবা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহারের তথ্য থাকলে সংস্থাটির হটলাইন ১৬১১৯ নম্বরে অথবা dg@bsti.gov.bd ই-মেইলে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
ব্রেকিং