নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬:৫৬, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে তিনটি ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন এক শিক্ষার্থী।
সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি কেন সংগ্রহশালায় রাখা হয়েছে, এর ব্যাখ্যা প্রশাসন ও ডাকসু নেতাদের দিতে হবে। যে জিন্নাহ তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে শুধু উর্দু প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তার ছবি এখানে রাখা কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আবু তৈয়ব আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই সংগ্রহশালায় ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আবুল কাসেম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশের মতো ব্যক্তিদের ছবি থাকা উচিত।
আবু তৈয়ব হাবিলদার ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
সংস্কারকাজ শেষে রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা নতুন করে চালু করা হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো ছবি না থাকলেও নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবি।
ছবিগুলোর একটিতে ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া জিন্নাহর বক্তব্যের প্রসঙ্গ রয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
অন্য একটি ছবিতে ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের দলীয় ছবি রয়েছে, যেখানে জিন্নাহকে দেখা যায়। তৃতীয়টি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এ প্রকাশিত জিন্নাহর ছবি সংবলিত একটি প্রতিবেদন থেকে নেওয়া পেপার কাটিং।
এদিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সোমবার সকালে সংগঠনটি অভিযোগ করে, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনা ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার বিপরীতে গিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছে।
ব্রেকিং