মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি চেয়ে আবুল কালামের আপিল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:১৫, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৭, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি চেয়ে আবুল কালামের আপিল

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের আপিল গ্রহণের বিষয়ে আজ শুনানি ও আদেশ হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) শুনানি ও আদেশ হতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে আবেদনটি শুনানি ও আদেশের জন্য কার্যতালিকায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি আবুল কালামের আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আদালত চাইলে আজ আপিল গ্রহণের বিষয়ে শুনানি করতে পারেন, আবার শুনানি শেষে আদেশও দিতে পারেন।

এর আগে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও আপিল বিভাগে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি থাকায় আবুল কালামের আবেদনটি কার্যতালিকায় ওঠেনি। পরে নতুন করে আজকের কার্যতালিকায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

গত ৩১ আগস্ট আপিল বিভাগ ৭ সেপ্টেম্বর আদেশের দিন নির্ধারণ করেছিলেন। সেদিন আবুল কালামের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আবুল কালাম এর আগে আপিল করে বিলম্ব মার্জনার আবেদন জানান। পাশাপাশি আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত রাখারও আবেদন করেন।

আবুল কালাম জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রোকন। পলাতক অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মুক্তিযুদ্ধের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের এটিই ছিল প্রথম রায়।

মামলার আগে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পান আবুল কালাম। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে গত বছরের অক্টোবরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে আবুল কালামের মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। এর আগে তার দেশে ফেরার খবরও প্রকাশিত হয়।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম। ওইদিন শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল তাকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি দেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আপিল বিভাগ থেকে পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত তাকে বর্তমান অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। 

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন