বিরোধিতার মধ্যেই র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল পাস

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯:৩৩, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিরোধিতার মধ্যেই র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল পাস

ছবি: সংগৃহীত

বিরোধী দলের নানা আপত্তি ও সমালোচনার মধ্যেই বহুল আলোচিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আইনটির মাধ্যমে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ কণ্ঠভোটে বিলটি পাসের ঘোষণা দেন।

এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপনের পর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটির বিভিন্ন ধারায় সাতটি নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানানো হয়।

বিল পাসের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ও অন্যান্য সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে শুধু নতুন নামে একই ধরনের বাহিনী গঠন করলে জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাই আইনটি পাস না করার আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী সদস্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ ও শক্তিশালী স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের নতুন রূপে পরিণত হতে পারে। তারা রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান।

আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, ঢাকায় সদর দপ্তর নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে এসআরবি গঠিত হবে। পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণের মাধ্যমে এতে নিয়োগ দেওয়া যাবে। বাহিনীর প্রধান হবেন মহাপরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা, যিনি অন্তত অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার হবেন।

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ ও সাইবার অপরাধ, গুম, ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার ও মাদক দমনে বাহিনীটি কাজ করবে। গ্রেপ্তার ও তল্লাশির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও জব্দ করা আলামত দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করতে হবে।

বিলে এসআরবি সদস্যদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির ওপর নির্যাতন বা বেআইনি বলপ্রয়োগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্যসহ বিভিন্ন অপরাধে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর, বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত, তিরস্কার ও জরিমানার বিধান রয়েছে। সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গঠন করা হবে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’।

বিলে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের নতুন ধরন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের লক্ষ্যেই এসআরবি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব-সংক্রান্ত আগের বিধান বাতিল হবে এবং বিলুপ্ত র‌্যাবের সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসআরবির কাছে ন্যস্ত হবে। 

আরও পড়ুন