সাংস্কৃতিক ঐক্য বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতির বড় ভিত্তি: নিতাই রায়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:১৪, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংস্কৃতিক ঐক্য বাংলাদেশ-ভারত সম্প্রীতির বড় ভিত্তি: নিতাই রায়

বাংলাদেশ-ভারতের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে বৈঠকে অংশ নেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তাঁর মতে, একটি জাতির স্বকীয় পরিচয় ও মূল্যবোধ সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হয় তার সংস্কৃতিতে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নজরুল বর্ষ পালন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ধ্রুপদি সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ শিল্পীদের বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক শুধু ভৌগোলিক প্রতিবেশিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে যোগসূত্র রয়েছে, সেটিই পারস্পরিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

তিনি বলেন, মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের মতো শিল্পীদের সৃষ্টিকর্ম দুই দেশের মানুষের মধ্যেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়, শিল্প ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় সীমারেখার বাইরে গিয়ে মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে পারে।

চলমান নজরুল বর্ষের বিভিন্ন আয়োজনে ভারতের বিশিষ্ট নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মীয় উগ্রতা, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজন মোকাবিলায় সাংস্কৃতিক চর্চা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে দুই দেশের আরও যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। প্রাথমিকভাবে ভারত থেকে দুজন ধ্রুপদি শিল্পীকে বাংলাদেশে এনে কর্মশালার আয়োজনের কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে অনেক অভিন্নতা রয়েছে। এসব অভিন্নতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে তিনি ‘আত্মার সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক আয়োজন করার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ কর্মসূচি আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন।

দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, দুই দেশের তরুণ শিল্পীদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর হবে।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে দুই দেশের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।

বৈঠক শেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি এবং অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে।

আরও পড়ুন