আশুলিয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০০:৩৪, ১৩ আগস্ট ২০২৬

আশুলিয়ায় স্কুলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ, এনসিপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ২

ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আশুলিয়ায় দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক তৌহিদুর ইসলাম সানভী ও নাজিম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রধান অভিযুক্ত শাকিল (২৩) এখনো পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকা এবং সহযোগিতা করার অভিযোগে তৌহিদুর ইসলাম সানভী ও নাজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৬ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী আশুলিয়ার কন্ডা এলাকার বাসিন্দা এবং সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। মামলার প্রধান আসামি শাকিল তাদের প্রতিবেশী। পরিবারের অভিযোগ, শাকিল ও তার সহযোগীরা স্কুলে যাতায়াতের সময় ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত।

ভুক্তভোগীর মা ও মামলার বাদী আরিফা আক্তারের অভিযোগ, গত ১০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে তিনি মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে দুপুর সোয়া ২টার দিকে মেয়েকে আনতে স্কুলে গেলে জানতে পারেন, সে সেখানে নেই।

এরপর মেয়ের সহপাঠী ও বান্ধবীদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, দুপুর ২টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগরে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে শাকিল ও তার সহযোগীরা তার মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন এবং মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। পরে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করে মঙ্গলবার আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর মা। অভিযোগের পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে তৌহিদুর ইসলাম সানভী ও নাজিমের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, অপহরণের ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার প্রধান আসামি শাকিলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

আরও পড়ুন