নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০০:৫১, ১৬ আগস্ট ২০২৬
কুষ্টিয়ায় জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।/ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ায় জামায়াতে ইসলামী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গাড়ির কাচ ভেঙে তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের ছয়রাস্তা মোড়ে সংসদ সদস্য আমির হামজার বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ।
আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহত সবার পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি সংসদ সদস্য আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তুলে দলটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার নেতাকর্মীরা বিকালে ছয়রাস্তা মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশস্থলের কাছেই আমির হামজার বাসভবন। কর্মসূচির শেষ দিকে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে আমির হামজা বাড়ির দিকে ফেরার সময় তাঁর গাড়ি থেকে সমর্থকেরা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে হাতাহাতি থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই সংগঠনের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে মাগরিবের নামাজের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে অবস্থিত গণঅধিকার পরিষদের জেলা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে ছয়রাস্তা মোড়ের হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সভাপতি আব্দুল খালেকের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনার পর শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়।
গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ অভিযোগ করেন, আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় আমির হামজার গাড়ি সেখানে এলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। পরে দলীয় কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়। হামলায় তিনি এবং সংগঠনের আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তৌকির।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় একটি কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে তিনি জানতে পারেন, তাঁর বাবা-মাকে নিয়ে গালাগালি করা হচ্ছে। পরে সদর থানার ওসির গাড়ির পেছনে তাঁর গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় গণঅধিকার পরিষদের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক ও সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদের নেতৃত্বে একদল লোক লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে তাঁর গাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আমির হামজার দাবি, ওই হামলায় তিনি নিজেসহ জামায়াতের সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ সদস্যের বাসভবনসহ আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ব্রেকিং