নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:২৬, ২৩ আগস্ট ২০২৬
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় বাসা থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ।ছবি: সংগৃহীত
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় একটি বাসা থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তী।
পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শনিবার রাতে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে প্রীতিলতার বোন পূজা চক্রবর্তী মাছুয়াপাড়ার বাসায় যান। সেখানে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসার দরজা বন্ধ দেখতে পায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। এরপর বাসার বিভিন্ন স্থান থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রীতিলতা ও তার মেয়ে আগামীকে ছাদের সিঁড়ির কাছে পাওয়া যায়। ছেলে প্রীয়মের মরদেহ ছিল খাটের নিচে। আর গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় ছাদের একটি অংশে।
ঘরের ভেতরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিহতদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং একই সঙ্গে ডাকাতির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত গণপতি চক্রবর্তী প্রায় এক বছর আগে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। পরিবারের সদস্যরা সম্প্রতি মাছুয়াপাড়ার নিজেদের দোতলা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছিলেন। বাড়িটির নিচতলার কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। নতুন এলাকায় বসবাস শুরু করায় আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গেও পরিবারের খুব বেশি পরিচয় গড়ে ওঠেনি বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
পূজা চক্রবর্তী জানান, শনিবার রাতে তিনি একে একে তার বোন, ভগ্নিপতি ও দুই ভাগনের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো ফোনেই সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বাসায় গিয়ে কলিং বেলও কাজ করতে না দেখে সন্দেহ হয়। জানালা দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে ঘরের জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে তিনি পুলিশকে খবর দেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার ভেতরের পরিস্থিতি দেখে ডাকাতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই বাড়িটির সামনে স্বজন ও স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। স্বজনদের আহাজারিতে সেখানে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল আলামত সংগ্রহ ও ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত এবং কী কারণে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ব্রেকিং