রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার নেপথ্যে ইয়াবা সেবনে বাধা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫:৩৭, ২৩ আগস্ট ২০২৬

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার নেপথ্যে ইয়াবা সেবনে বাধা

রংপুরে বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই অভিযুক্ত।ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ভোলা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ কমিশনারের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযুক্ত দুই যুবক পাশের ভবন হয়ে ওই বাড়ির ছাদে যায়। সেখানে তারা ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ শুনে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে গিয়ে তাদের সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চান। এ সময় নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে তাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্তরা জানিয়েছে।

বাবার চিৎকার শুনে স্ত্রী প্রীতিলতা সিঁড়ি দিয়ে ছাদে উঠতে গেলে তাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। পরে মাকে দেখতে এগিয়ে আসা মেয়ে প্রার্থীকেও কাপড় ও রশি ব্যবহার করে শ্বাসরোধ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েটির মৃত্যু হতে কয়েক মিনিট সময় লাগে। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় পরিবারের ছোট ছেলে প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

হত্যার পর অভিযুক্তরা ওই বাড়ির একটি বাথরুমে গোসল করে। পরে খাবার টেবিলে বসে খেজুর খাওয়ার পাশাপাশি অবশিষ্ট ইয়াবা সেবন করে তারা। এরপর জুমার নামাজের সময় রাস্তাঘাট তুলনামূলক ফাঁকা থাকার সুযোগে বাড়ি থেকে কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে বেরিয়ে যায়।

পুলিশের দাবি, নেওয়া স্বর্ণালংকারগুলো পরে একটি মন্দিরের পেছনে পরিত্যক্ত স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্তদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সেখান থেকে এসব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা আরও জানান, ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে দেখানোর উদ্দেশ্যে হত্যার পর ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ইচ্ছাকৃতভাবে এলোমেলো করে রাখা হয়। পাশাপাশি আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
 

আরও পড়ুন