যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:১১, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
পেনশন ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমকে হাতেনাতে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত যশোর সমন্বিত দুদক কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দুদক অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তারাও সেখানে যোগ দেন। শতাধিক মানুষ একত্রিত হয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
দুদক সূত্র জানায়, পেনশন সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। অভিযানের পর তাঁকে দুদক কার্যালয়ে নেওয়া হলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে মামলার প্রক্রিয়া শেষ হলে পুলিশ অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের গাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে বাধা সৃষ্টি করেন। তবে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলা হওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি বুঝিয়ে বলার পর বিক্ষোভকারীরা স্থান ত্যাগ করেন।
সদর উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল জব্বর বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। তিনি একজন সৎ কর্মকর্তা। তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
আরেক শিক্ষক শাহানারা খানম দাবি করেন, “অভিযোগটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে টাকা রেখে তাঁকে ফাঁসিয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”
সদর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম বলেন, “আমরা আইন মেনে আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি। প্রয়োজনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
যশোর কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে ডিবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে।
ব্রেকিং