নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪:৫৫, ২৪ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় হোটেল বন্ধের নোটিশের পর থাকার জায়গা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি পর্যটকরা। ছবি: সংগৃহীত
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন। অগ্নিকাণ্ডের পর বিভিন্ন হোটেলকে বন্ধের নোটিশ দেওয়ায় সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেকে বিপাকে পড়েছেন।
গত ১৮ আগস্ট মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লেগে ঘুমন্ত অবস্থায় নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন। এরপর কলকাতা পৌরসভা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় হোটেলগুলোতে অভিযান শুরু করে।
কলিন স্ট্রিট, রফি আহমেদ স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মার্কুইস স্ট্রিটের বেশ কয়েকটি হোটেলকে বন্ধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স না থাকায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেল মালিক জানান, তার হোটেলে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। সোমবার তাদের হোটেল ছাড়তে বলা হয়।
হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি পর্যটক পার্ক স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস, মেহেদি বাগান ও জাকারিয়া স্ট্রিটের দিকে চলে যাচ্ছেন। এসব এলাকায় হোটেলের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও বেড়েছে। কোথাও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ, আবার কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে হোটেল বন্ধের কারণে পর্যটকদের পাশাপাশি কর্মীরাও সমস্যায় পড়েছেন। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় অনেক হোটেলকর্মী প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকরাও পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এক বাংলাদেশি পর্যটক জানান, হোটেলে ওঠার পর প্রশাসনের নির্দেশে তাকে দ্রুত হোটেল ছাড়তে হয়েছে। তার মতে, এমন পরিস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে কলকাতায় চিকিৎসা বা ভ্রমণে আসার বিষয়টি নতুন করে ভাবতে হবে।
দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার পর কলকাতায় এসে এ ধরনের সমস্যায় পড়ায় অনেক বাংলাদেশি পর্যটক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ব্রেকিং