নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:২১, ২৫ আগস্ট ২০২৬
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কার এত জ্বালা?’ ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করলে হুমায়ুন কবির পাল্টা জানতে চান, কোন সংবাদপত্রে বিষয়টি প্রকাশিত হয়েছে। একপর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘কার এত জ্বালা?’
টেকনোক্র্যাট হিসেবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়া হুমায়ুন কবির বলেন, তিনি বাংলাদেশি পরিচয়েই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের বাংলাদেশি পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ দেখেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য কাজ করতেই তিনি দায়িত্ব নিয়েছেন এবং নিজেকে বাংলাদেশের একজন মন্ত্রী হিসেবেই দেখছেন।
এর আগে শুক্রবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন হুমায়ুন কবির। এর আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর সেখানেই তার বেড়ে ওঠা ও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন হয়।
তার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধন সংস্থা কোম্পানিজ হাউজের তথ্যেও হুমায়ুন কবিরের নাম ব্রিটিশ নাগরিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে এবং তার ঠিকানা যুক্তরাজ্যে দেখানো হয়েছে।
কোম্পানিজ হাউজের নথি অনুযায়ী, ‘হ্যামলেটস কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ সিআইসি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন হুমায়ুন কবির। ২০১২ সালের ১৮ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে যুক্ত হন এবং একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পদটি ছেড়ে দেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ ও ৬৬ অনুচ্ছেদে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতার বিষয়ে বিধান রয়েছে। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা সেই রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারাতে পারেন। তবে পরবর্তীতে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করলে নির্দিষ্ট শর্তে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ফিরে পাওয়ার বিধানও রয়েছে।
এই সাংবিধানিক বিধানের কারণেই হুমায়ুন কবিরের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নটি সামনে এসেছে।
গত রোববার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, হুমায়ুন কবির সিলেটে জন্মগ্রহণ করলেও আড়াই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে চলে যান। সেখানে তিনি পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। একসময় তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে অনলাইনে আলোচনা ও সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি আবারও সামনে এলে হুমায়ুন কবির হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, তিনি ‘সিটিজেন’ নিয়ে আছেন, সাংবাদিকদের ‘নেটিজেন’ প্রসঙ্গটি দেখতে বলেছেন।
পরে ওই সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করা হলে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদককে ইঙ্গিত করে ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও টেনে আনেন।
সবশেষে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশপ্রেমিক মানুষ, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে।
ব্রেকিং