ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪:১১, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে আসছে নীতিমালা

ঢাকার প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার প্রধান সড়ক ও মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার। এসব যান কোথায় চলতে পারবে, চলাচলের সীমা কতটুকু হবে, যানবাহনের মান ও নিরাপত্তা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের মতো বিষয়গুলো নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেড়েছে। এসব যান মানুষের যাতায়াতে কিছুটা সুবিধা তৈরি করলেও একই সঙ্গে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে। অনেক চালকের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় সড়কে চলাচলের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

এ ছাড়া ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো কারিগরি দিক থেকে কতটা নিরাপদ এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখছে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার দ্রুত এ বিষয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করবে। কোন এলাকায় এসব যান চলাচলের অনুমতি পাবে এবং কী ধরনের যান চলাচল করতে পারবে—এসব বিষয় সেখানে স্পষ্ট করা হবে। এর ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল আরও নিয়মতান্ত্রিক করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের মৎস্য খাতের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরা হয়। উপদেষ্টা জানান, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর জর্জ ইনস্টিটিউট স্টেডিয়ামে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণির ১৪ জন মৎস্য পেশাজীবী, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে সম্মাননা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে। কৃষির অন্যান্য খাতের মতো মৎস্য উৎপাদনেও দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে।

এ সময় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ডের দ্বিতীয় ধাপ চালুর বিষয়টিও জানানো হয়। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ৪৫৭ জন উপকারভোগীর হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

চলতি অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য সরকারের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের জীবনযাত্রায় সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। উপকারভোগীরা অর্থ ব্যয় করলে বাজারে চাহিদা বাড়বে। এর ফলে নতুন ব্যবসা, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ডা. জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি নয়। এর মাধ্যমে একদিকে নিম্নআয়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে বাজারে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর বহুমুখী প্রভাব পড়তে পারে।

সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ পরিবার দিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ভবিষ্যতে প্রতিবছর এর আওতা আরও বাড়ানো হবে।

আরও পড়ুন